ঢাকাSunday , 17 December 2023
  1. অপরাধ-দূনীর্তি
  2. আইন-আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. খেলাধুলা
  6. চিকিৎসা
  7. জাতীয়
  8. দেশজুড়ে
  9. ধর্ম
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়

কোটচাঁদপুরে দলবেঁধে ভিক্ষাবৃত্তি বেড়েই চলছে

Alomgir hossain
December 17, 2023 10:35 pm
Link Copied!

কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:-ভিক্ষুক মুক্ত কোটচাঁদপুর বলা হলেও এখন দলবেঁধে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি। এখানে আকলিমা, জাহিরুল, ফাতেমা, রহিমা, লালবানু এদের মধ্যে কেউ বয়স্ক-বিধবা, কেউবা প্রতিবন্ধীভাতা ভোগী। কিন্তু তারা দারিদ্রতার ধাক্কায় দলবেঁধে নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। সকাল হলেই ছুটছেন শহর থেকে গ্রামে। জীবিকার সংগ্রামে হাত পাতছেন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও পথচারিদের কাছে। শুধু এরাই নন। এমন অসংখ্য ভিক্ষুকের জটলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন কোটচাঁদপুর বাসী। দলবেঁধে ট্রেন থেকে নেমে ভিক্ষাবৃত্তির এমন দৃশ্য দেখা যায় গত শনিবার সকালে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের ফুলবাড়ি রেলগেট সংলগ্ন রিপনের মুদিখানা দোকানে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কোটচাঁদপুর পায়রা চত্বর, বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এবং জনাকীর্ণ এলাকায় হাত পাতছেন দলে দলে ভিক্ষুকগণ। তবে এদের কারো বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলায় নয়। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, গেল করোনার প্রভাব আর দ্রব্যমূল্য অগ্নিমূল্যসহ নানা কারণে দরিদ্র্য পরিবারে বেড়েছে ভিক্ষাবৃত্তি। এছাড়া শারীরিক অক্ষমতা, পঙ্গুত্ববরণ, বিধবা হওয়া, অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসাসেবা, মেয়েকে পাত্রস্থ ও সন্তানদের কাছে বিতাড়িত হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামছেন তারা। তাদের কেউ বলেছেন অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসাসেবা, রোগাক্রান্তে পঙ্গুত্ববরণে ভিক্ষুক সেজেছেন। কেউবা জানিয়েছেন স্বামী মারা গেছেন, সন্তানেরা দেখেন না, আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়ায় বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি নিন্ম এ পেশা। আবার অনেকে বাণিজ্যিক হিসেবেও এই কাজটি করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জের জাকিরুল ইসলাম (৩৫) জানালেন, নানা অভাব-অনটনের সংসার তার। এক সময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। এরই মধ্যে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন। তাই পরিবারের চাহিদা পূরণের চেষ্টায় অন্যের কাছে হাত পাতছেন তিনি।লালবানু (৫৫) নামের আরেক ভিক্ষুক বলেন, এক বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। দুই ছেলের সংসার নিয়ে তেমন চলে না। তাই নিজেকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে। যশোর শঙ্করপুরের রহিমা (৬৫) জানালেন, তার তিনটি ছেলে তেমন খোঁজ-খবর রাখেন না। আর সবকিছুর দাম বেড়েই চলেছে। এতে করে ব্যয়ভার সামাল দিতে ভিক্ষা করেই জীবন পার করছেন। রিপন মিয়াসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আগের তুলনায় ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে সপ্তাহের প্রতি শনিবার দিনব্যাপী ভিক্ষুকদের ভিড় লেগেই থাকে। তাদের আনাগোনায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। এবিষয়ে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী রেজাউল ইসলাম বলেন, সমাজ থেকে ভিক্ষুক হ্রাস কল্পে প্রথমত প্রতিবেশীদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সুবিধাগুলো জন প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সুষম বন্টন অবশ্যক। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার জহুরুল ইসলাম বলেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষে ইতোমধ্যে অনেক নারী-পুরুষকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে কোটচাঁদপুরের স্থানীয় লোক তেমন ভিক্ষাবৃত্তি করে না তবে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে এরা আসে ভিক্ষা করতে।