ঢাকাFriday , 20 November 2020
  1. অপরাধ-দূনীর্তি
  2. আইন-আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. খেলাধুলা
  6. চিকিৎসা
  7. জাতীয়
  8. দেশজুড়ে
  9. ধর্ম
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়

চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সের মতো সাইরেন বাজাচ্ছে সাধারণ গাড়ির চালক

NAYAN AHMMED
November 20, 2020 3:13 pm
Link Copied!


এম.এ.আর নয়ন:


গাড়ির উপর লাল ও নীল রঙের আলো জ্বলছে সেইসাথে বাজছে সাধারণ গাড়ির থেকে আলাদা একটা হর্ণ যেটা আমাদের অনেকের কাছেই অ্যাম্বুলেন্স হর্ণ নামে পরিচিত। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি এই ধরনের সাইরেন / হর্ণ ব্যবহার করে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, যেটাকে অনেকেই পাগলা গাড়িও বলে থাকে৷ এই ধরনের হর্ণ বাজানো মানেই ইমার্জেন্সি কিছু একটা বোঝানো হয়। যার কারণে রাস্তায় একটু বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে ওই সমস্ত গাড়ির চালকরা। আর ইমার্জেন্সি সাইরেন বাজলে বেশীরভাগ গাড়ির চালকই রাস্তা ছেড়ে দিয়ে আগে যাওয়ার জন্য জায়গা করে দেয় ইমার্জেন্সি হর্ণ বাজিয়ে রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির চালককে।

কিন্তু বর্তমানে এই সুযোগটা আদায় করতে চাইছে এক শ্রেণির সাধারণ গাড়ির চালক ও নিজেকে নিজেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা কিছু অখ্যাত ব্যক্তি যারা ব্যক্তিগত কার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য গাড়িতে ব্যবহার করছে এই ইমার্জেন্সি হর্ণ। এমনকি বেশকিছু মোটরসাইকেলের চালকরা ও বাজাচ্ছে এই ধরনের ইমাজেন্সি হর্ণ। এতেকরে রাস্তায় চলাচলরত যাত্রী সাধারণসহ ঘর বাড়িতে বসবাস করা মানুষজন ও ভোগান্তিসহ নানা রকম উৎকণ্ঠায় পড়ছে। কিন্তু কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা আইন ভঙ্গকারী ওই সমস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে যশোর-চুয়াডাঙ্গা রোড়ে চলাচলকারী এক বাসচালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আগে এই ধরনের সাইরেন বাজলে দ্রুত সাইড দিয়ে পিছনের গাড়িকে বের করে দিতাম। এখন আর তেমন গুরুত্ব দিইনা। কেন দেননা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগেই অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ির মতো হর্ণ শুনে লুকিং গ্লাসে না তাকিয়েই পিছনের গাড়িটি খুবই ইমার্জেন্সি এমন ভেবে সাইড দিয়ে দেখি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট বাদে তিন যুবক এই সাইরেন বাজাতে বাজাতে চলে যাচ্ছে। তাহলে এখন আর ওই সাইরেনের গুরুত্ব দিবো কি করে?

এছাড়া জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তি জানান, আগে এই সাইরেন শুনলে মনে করতাম গ্রামের হয়তো কেউ মারা গেছে তার লাশ গ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে, না হয় হঠাৎ কোন সম্ভান্ত পরিবারের সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসছে৷ দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে বিষয়টি জানার জন্য অন্যজনের কাছে খোঁজ নিতাম। কিন্তু এখন আর কিছুই মনে করিনা। কারণ বাড়ির পাশ দিয়ে দিনে রাতে অনবরত এই হর্ণ বাজাতে বাজাতে ছুটে চলে মোটরসাইকেল চালকরা যাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সী।

তিনি আরও জানান, এ সমস্ত বিষয়ের কারণে প্রকৃত ইমার্জেন্সি হর্ণ বাজানোর অধিকার নিয়ে যে সমস্ত গাড়ির চালকেরা রাস্তায় চলাচল করে তারা পড়ছেন নানা ধরনের ভোগান্তিতে। কারণ, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী থাকার পরেও গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে চালকসহ রোগীর আত্মীয়স্বজনদের৷ যার কারণে সময় মতো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক রোগী মারাও যাচ্ছে। 
এজন্য সাধারণ গাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স হর্ণ বাজানো থেকে চালকদের বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার এবং পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন জেলাবাসী।