ঢাকাFriday , 25 December 2020
  1. অপরাধ-দূনীর্তি
  2. আইন-আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. খেলাধুলা
  6. চিকিৎসা
  7. জাতীয়
  8. দেশজুড়ে
  9. ধর্ম
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়

দামুড়হুদার মজলিসপুরে ভেজাল বীজ ক্রয় করে একাধিক কৃষকের মাথায় হাত! – JN7

NAYAN AHMMED
December 25, 2020 7:05 am
Link Copied!

মশিউর রহমান তুষার, দামুড়হুদা প্রতিনিধিঃ

দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকরা তাদের জমিতে ফুলকপি লাগানোর জন্য বীজ সংগ্রহ করে পাশ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার বড় বাজারে অবস্থিত আল্লাহর দান বীজ ভান্ডার ও তাঈম এগ্রো সীডস্ থেকে।

মেহেরপুর বড়বাজারের বীজ ব্যাবসায়ী দয়াল রানা এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের WHITE STONE এর SAKATA বীজ ভালো হবে বলে কৃষকদেরকে বীজ কিনতে উৎসাহী করেন।
মজলিসপুর গ্রামের প্রায় ৩৫ জন কৃষক ১৪০ প্যাকেটের মতো বীজ সংগ্রহ করে। যার প্রতি প্যাকেটের মূল ধরা হয় ৫৫০ টাকা করে।

কৃষকরা তাদের মাঠের জমিতে ঐ কোম্পানির বীজ দিয়ে বেড তৈরির ৩০/৪০ দিনের মধ্যে বেডেই ফুলকপির গুটি বেরুতে দেখা যায় এবং ফুলকপি ওজন হয় ৫০-১০০ গ্রামের মতো। বেডে থাকার ৬০ দিন পর চারা লাগানোর কথা থাকলেও তা ৩০-৪০ দিন পরই কপি বেরিয়ে যায়।

বীজ কিনে ফুল বেরোনোর পর ফলন না হওয়ায় দিশেহারা কৃষকেরা। উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষক রিপন ৫, হয়রত ৫, আশা আলী ৪, আনাস ৩, ছাদ আলী ৬, সুরুজ ১৩, আবু সাঈদ ৪, মাহাফুজ ২, শান্তি ৩, মামুন২,আজাদ ৩, কালা চাঁদ ২, রাজন ৬, রাকিব ২ প্যাকেট সহ আরো ১০ জন কৃষক বীজ কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের ভুক্তভোগী রিপন, মাহাফুজ, আশা, আনাস সহ কৃষকরা কষ্টের সাথে জানান, আমরা দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষক। আমাদের নিজ জমি সহ অন্যের কাছ থেকে লিজ নেওয়া জমিতে ফুল কপির আবাদ করার জন্য মেহেরপুর জেলার বড় বাজারের দয়াল রানা’ র আল্লাহর দান বীজ ভান্ডার ও মেসার্স তাঈম এগ্রো সীড নামের দোকান থেকে প্রতি প্যাকেট ৫৫০ টাকা দামে এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের ফুলকপি’ র বীজ কিনে আনি। বীজ বেডে তৈরির জন্য দেওয়া হলে বীজ দেওয়ার ৩০-৪০ দিন পর বেডেই চারা অনেক বড় ও কপির গুটি বেরিয়ে আসে,আবার আমাদের অনেকেই জমিতে লাগানো ফুলকপি’ র ওজন হয়েছে ৫০-১০০ গ্রাম। ফলন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে কপি গাছ কেটে ফেলেছেন।

আমরা সবাই যে দোকান থেকে কপির বীজ কিনে নিয়ে এমন বিপদে পড়েছি সেই দোকানেও ফোন করে জানিয়েছি।দোকানদার আমাদের কোন পরামর্শ না দিয়ে উল্টো খারাপ ব্যাবহার করেন।

প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে লাগানো হয়েছিল এ আর মালিক সীডস্ কোম্পানির ফুলকপি’ র বীজ। কৃষকদের দাবি প্রায় ২০-৩৫ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে তাদের।গতকাল বৃহস্পতিবার কপির চারা নিয়ে ২০ জন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামানের দপ্তরে অভিযোগ করেন।

এ সময় দামুড়হুদা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান এর নিকট এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের মার্কেট ডেভেলপমেন্টের এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল হালিম ও মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মহসিন কাজের জন্য আসেন।

বিষয়টি কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান কোম্পানির প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে এ আর মালিক সীডস্ প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার ( মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট) আব্দুল হালিম বলেন, যে ঘটনার কথা কৃষক ভাইয়েরা বলছেন তেনটি হবার কথা নয়, এর পরও আমরা আগামী রবিবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান সহ ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঠে যেয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দেখার পর কৃষকদের সাথে কথা বলে সমাধান করবো।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষক সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম জানান- উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের প্রায় ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে লাগানো ফুলকপি বীজ কিনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক ভাবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হতে পারেন বলে ধারণা করছি।সাধারণ কৃষকরা তাদের নিজের জমি ছাড়াও অন্যের জমি লিজ নিয়ে কষ্টের ফসল ফলিয়ে থাকেন।কৃষকদের এ ক্ষতি অপূরনীয়। আজ কৃষকেরা দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে হাজির হয়ে কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামানের নিকট মজলিসপুর গ্রামের ২০ জন কৃষক অভিযোগ করে তাদের ক্ষতির কথা বলেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, কপির বীজ ক্রয় করে ফলন না হওয়ার জন্য উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের কৃষকেরা হাজির হয়ে অভিযোগ করেছেন।বিষয় টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। উল্লেখিত বিষয় টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

কৃষকেরা এ আর মালিক সীডস্ কোম্পানির ফুলকপির বীজ ক্রয় করে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা দুঃখ জনক। কোম্পানিটি অন্যআন্য কৃষকদের মাঝে কোন কোন স্থানে বীজ বিক্রয় করেছেন এবং রোপন করার পর কেমন হয়েছে তা দেখার পরই বুঝা যাবে যে আবহাওয়া জনিত সমস্যা নাকি বীজের সমসা। কোম্পানির দু’ জন প্রতিনিধিরা অফিসে একটা কাজের জন্য এসেছিলেন, সে সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন অনন্য কৃষকদের ফুলকপি এমন হয়নি, এরপরও যদি এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে বিষয় টি আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবো। বিষয়টি যদি কৃষকদের সাথে সমঝোতায় আসতে পারেন ভালো কথা,আর যদি তা না হয় তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।