ঢাকাTuesday , 10 November 2020
  1. অপরাধ-দূনীর্তি
  2. আইন-আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. কৃষি ও অর্থনীতি
  5. খেলাধুলা
  6. চিকিৎসা
  7. জাতীয়
  8. দেশজুড়ে
  9. ধর্ম
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সম্পাদকীয়

মহেশপুরের গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

NAYAN AHMMED
November 10, 2020 7:46 am
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলার মহেশপুরে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম শস্য বীজ উৎপাদন খামার দত্তনগর কৃষি ফার্ম। খামারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জর্জরিত। ভুয়া বিল ভাউচার, হাইব্রিড বীজ প্রেরণে অনিয়ম, বিচলি বিক্রয়, শ্রমিকের টাকা আত্মাসাৎ, নারী কেলেংকারীসহ খামারে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

শ্রমিকদের প্রতিদিন জনপ্রতি ২০০ টাকা করে হাজিরা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাস্টাররোল দেখিয়েছেন ৪০০ টাকা করে। এভাবে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের শ্রমিকরা।এছাড়াও নানা দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এলাকার শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণ কৃষি মন্ত্রনালয়, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগ পত্র দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিএডিসি’র চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্য চারটি বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালকদের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ চাঁদা আদায় করেন তিনি। কেউ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বদলী করে দেবার হুমকি দিয়ে থাকেন। এসব অত্যাচার, অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে কোন কর্মচারী ও কর্মকর্তা মুখ খোলেন না। কেউ বললেও তাকে বদলি করাসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেওয়া হয়।

তেমনই একটি ঘটনা ঘটে গত কয়েক দিন আগে ষ্টোর কিপার সুকান্ত ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে। অবশেষে তিনি বদলি হতেও বাধ্য হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩ কোটি টাকা মুল্যের বীজ চুরির দায়ে ফার্মটির ৫ উপ-পরিচালকের মধ্যে ৩ জনকে বরখাস্ত করা হলেও এতে থেমে থাকেনি উপ- পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের দুর্নীতি এবং অনিয়ম। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগসহ ফার্মটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিলেও ১২/১২/২০০১ সাল থেকে পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারে যোগদান করলেও অদ্যবধি ৫টি খামারে প্রায় ১৮ বছর চাকুরী করে আসছে দুর্নীতিপরায়ন গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। অদৃশ্য কারণে নানা দুর্নীতি আর অনিয়ম করলেও তাকে বদলি করা হয়নি এই বীজ উৎপাদন খামার থেকে।

এই খামারে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে নিজস্ব বলয় তৈরী করে নিজের খেয়াল খুশিমতো খামারটিতে দুর্নীতির আকড়ায় পরিনত করেছেন। বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায়, গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুর্নীতি করে রাতারাতি ঢাকাতে ৫টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন। এছাড়াও তিনি নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রেখেছেন এবং আঙুলফুলে গলাগাছ হয়ে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। গত এক বছরে তিনি ৩৪বারেও অধিক যশোর থেকে ঢাকায় বিমানে যাতায়াত করেছেন বলেও জানা যায়।

শুধু তাই নয় গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন নারী লোভীও বটে। জানা গেছে তার অফিসের এক কর্মচারীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্কের জালে আটকান তিনি। শুধুই তাই নয় তার হাত থেকে সাঁওতাল পল্লীর দরিদ্র মহিলারাও তার হাত থেকে রক্ষা পায় না।

তবে সীমাহীন অব্যবস্থাপনা, আর্থিক বরাদ্দের অভাব, অপ্রতুল প্রযুক্তিগত সহায়তা, শ্রমনীতিমালা না থাকা, বেতনস্কেল, চাকুরিচ্যুতি আর অবসর প্রাপ্তির কোন নিয়মনীতি না থাকায় অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ফার্মটি। এসব দুর্নীতি অনিয়ম থেকে এশিয়ার বৃহত্তম ফার্মটিকে রক্ষা করা গেলে বীজের চাহিদা মিটিয়ে ফার্মের সুফল আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিককে অনুরোধ করেন।